যেভাবে মনযোগ সহকারে নামাজ পড়বেন

নামাজে মনযোগ অনেক কঠিন কিছু না যদি আপনি এটাকে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তবে একটা জিনিস জানা উচিৎ। সব পদ্ধতি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হয় না। এখানে আমি কিছু উপায় আলোচনা করবো যেগুলো অনুসরণ করলে আপনাদের নামাজে মনযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি।

বিঃদ্রঃ আমি নামাজ পড়ি কি পড়ি না সেটা বিচার করবেন না।

১) ওজু নামাযের অংশঃ ওজু করার আগে অন্তরে ধীর বিশ্বাস রাখতে হবে যে ওজুর মাধ্যমে আপনার সকল পাপ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ কিন্তু সত্যি সত্যিই আপনার সকল পাপ ক্ষমা করে দিয়েছেন ( অন্যকে কষ্ট দেওয়া ও হক মারা ছাড়া )। পূর্ণ মনযোগ সহকারে ওজু করবেন। প্রতিটা অঙ্গ ধোয়ার সময় সে অঙ্গ দ্বারা সংঘটিত গোনাহ থেকে তওবা করবেন এবং ১০০% বিশ্বাস রাখতে হবে মহান আল্লাহ সেটা ক্ষমা করে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ ওজুর মাধ্যমে আপনি পূর্ণাঙ্গ নিশ্বাপাপ হয়ে গেলেন। এমন না যে, এটা আমার কথা সত্যিই আপনি নিশ্বপাপ হয়ে গেছেন যদি অন্তরে নিয়ত করেন ভবিষ্যতে আর কোন পাপ করবেন না।

২) নামাজে আপনি আল্লাহর আরশে পৌঁছে যাবেনঃ বিসমিল্লাহ বলে জায়নামাজে দাঁড়ানোর সাথে সাথে আপনি আল্লাহর আরশে পৌঁছে গেছেন। নিজের অন্তরকে (মাইন্ড) পূর্নাঙ্গ বিশ্বাস করান যে আপনি আরশে পৌঁছে গেছেন। জায়নামাজে দাড়ানোর সাথে সাথে সৃষ্টি বলতে আর কিছু নেই। একমাত্র আল্লাহর খেয়াল থাকবে। তিনিই আছেন এবং তার দৃষ্টি অনুভব করবেন। এত উপরে কল্পনা না করতে পারলে নিজেকেও কল্পনা করতে পারেন যে, আপনি আস্ত একটা মানুষ আরশে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।

৩) আল্লাহর সাথে কথাবার্তাঃ আপনি যখন সুবাহানাক্বাল্লাহুমা বলা শুরু করেন তখন থেকেই আল্লাহর সাথে প্রাইভেট কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে। নামাজে আল্লাহ প্রতিটা কথার উত্তর দেন। এখন আপনি কথা বলবেন ও কল্পনা করবেন যে তিনি উত্তর দিচ্ছেন। সেজদাতে দোয়ার পাশাপাশি অন্তর থেকে নিজের সুখদুখের কথাও বলতে পারেন।

৪) কয়বার তাসবিহ পড়ছেন গননা করবেন নাঃ অনেকে গণনা করে যে কয়বার সুহাবানা রব্বি আল আলা বা আজিম বললাম। এটা গণনা করবেন না। যতখুশি ইচ্ছা বলতে থাকুন। রুকুহ ও সেজদায় তসবিহ গুলোর চেয়ে আল্লাহর মহত্ব এর দিকে মনযোগ দিন। সেজদায় অবশ্যই আপনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করবেন। যতক্ষন ইচ্ছা হয় থাকবেন।

৫) মনযোগ চলে গেলে চিন্তার কিছু নাইঃ ধরেন নামাজের শেষ রাকাতের বৈঠকে গিয়ে মনযোগ আসলো সেখানে থেকেই পূর্নমনোযোগ দিন। মনযোগ থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে মনযোগ কোন কারিশমা না, ধীরে ধীরে ব্রেইনে সেইভ হয় এটা। আপনি ইচ্ছা করলেই বাড়াতে পারবেন। যখনই খেয়াল আসবে নিজেকে আরশে আজীমে নিয়ে যাবেন একান্তই আলাহ আর আপনি। এক সময় মাইন্ড এটা বিশ্বাস করা শুরু করবে তখন মনযোগে আর কষ্ট হবে না।

৬) যত গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় আসুক তাকে বলুন প্রয়োজন নেই তোমারঃ নামাজেই সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজের চিন্তা আসে এমন মনে হয় এখন এটা নিয়ে না ভাবলে আমার লস হয়ে যাবে। নিজেকে বলুন আমার লস হওক। কিছু লস হওয়া উচিৎ। যখন আপনি উদ্বিত হওয়া চিন্তা গুলোকে পাত্তা দিবেন না এক সময় আর আসবে না।

৭) দিনের অন্যান্য সময় গুনাহ থেকে বেচে থাকুন

এগুলো আমার নিজস্ব উপলব্ধি থেকে লেখা, পবিত্র কুরআন ও হাদিস দিয়ে যাচাই করে আপনি উপযোগী মনে করলে অনুসরণ করতে পারেন।

@মোস্তাক শাহরিয়া মিম